ট্রাম্পের শুল্ক হুঙ্কার আর বাংলাদেশে ছাত্রদলের ঘেরাও; রাজনৈতিক ডামাডোলে কাঁপছে বিশ্ব।


 ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের সবশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন এক চরম অবস্থায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার একরোখা জেদ ধরে রাখায় ডেনমার্কসহ ইউরোপের অন্তত ৮টি দেশের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন, যা ট্রান্স-আটলান্টিক মিত্রদের মধ্যে ফাটল ধরিয়েছে। ইরানে সরকারবিরোধী তীব্র গণবিক্ষোভে প্রাণহানির সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে বলে খোদ তেহরান স্বীকার করে নিয়েছে, যা দেশটির শাসনব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে তুলেছে। এদিকে বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র নিয়ে আপিল শুনানি চলাকালে নির্বাচন কমিশন ভবনের বাইরে ছাত্রদলের ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে আছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো জীবন বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, যা মাদুরো সরকারের কঠোর অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। চীন ও রাশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সখ্যতা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে শি জিনপিংয়ের একীভূতকরণ ঘোষণা এই উত্তেজনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সিরিয়ায় আসাদ সরকার কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ওই অঞ্চলে নতুন করে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সুদানের গৃহযুদ্ধ নিরসনে আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা না হওয়ায় দেশটি এখন খণ্ড-বিখণ্ড হওয়ার পথে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা ও হামলার ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটে হয়ে আছে। হাইতিতে গ্যাং নেতাদের প্রভাব বিস্তার রাজনৈতিক শূন্যতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে, যার ফলে দেশটি শাসনতান্ত্রিকভাবে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

Previous Post Next Post