বিদ্যুৎ খাতের মাস্টারপ্ল্যানেই গলদ! পকেট কাটার ফাঁদ দেখছে সিপিডি


 সরকার যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বা মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে, তাতে বড় ধরনের গলদ ও অসংগতি খুঁজে পেয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি মনে করছে, বর্তমান পরিকল্পনায় জ্বালানি নিরাপত্তার চেয়ে ব্যয়বহুল আমদানিনির্ভর জ্বালানি ও অপ্রয়োজনীয় প্রযুক্তির ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে সিপিডি সরাসরি পরামর্শ দিয়েছে যেন সরকার এই মহাপরিকল্পনা নতুন করে পর্যালোচনা বা রিভাইজ করে। তাদের মতে, দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে গুরুত্ব না দিয়ে এলএনজি আমদানিতে বেশি আগ্রহ দেখালে দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হবে।

বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা নিয়ে সিপিডি জানায়, বর্তমানে দেশের চাহিদার চেয়ে উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি, যার ফলে কেন্দ্রগুলো বসিয়ে রেখে অলস টাকা গুনতে হচ্ছে। এই 'ক্যাপাসিটি চার্জ' বা বসে থাকার মাশুল কমানোর জন্য নতুন করে কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র না করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে এই পরিকল্পনায় যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় প্রকৌশলী ও সম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সিপিডির দাবি, জ্বালানি খাতের এই মহাপরিকল্পনা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা সাধারণ মানুষের পকেট কাটবে এবং বিদ্যুতের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ধাপে ধাপে কমিয়ে গ্রিন এনার্জির দিকে যাওয়ার জন্য এখনই শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অস্বচ্ছতা দূর করতে সব ধরনের চুক্তি প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডারের মাধ্যমে করার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। মহাপরিকল্পনা সংশোধনের মাধ্যমে যদি ব্যয় কমানো না যায়, তবে ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকটে দেশের শিল্প উৎপাদনও ব্যাহত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

Previous Post Next Post