জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই ঘোষণা আসার পর রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জাপা নেতাদের মতে, বর্তমান পরিবেশে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া প্রায় অসম্ভব। রাজপথে সংঘাত এবং অশান্ত পরিবেশ বজায় থাকলে নির্বাচনে যাওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে বলে তারা মনে করছেন।
দলের বর্তমান চেয়ারম্যান এক বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনের জন্য আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা জরুরি। প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে। জাপার অভিযোগ, বর্তমানে যেভাবে বিশৃঙ্খলা চলছে তাতে সঠিক জনমত প্রতিফলিত হবে না। তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে যেন দ্রুত সব দলের জন্য সমান সুযোগ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
জাতীয় পার্টির ভেতরেও এই নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। অধিকাংশ নেতার মত হচ্ছে, তাড়াহুড়ো করে ভোটে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ঝুঁকির মুখে ফেলা যাবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত পাড়া-মহল্লায় স্থিতিশীলতা ফিরছে না, ততক্ষণ তারা নির্বাচনী মাঠ থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করছেন। এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান ভূমিকা দেখার অপেক্ষায় আছেন।
জাপার এই অবস্থানে নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী দলের এমন শক্ত অবস্থান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাপা অংশ না নিলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আপাতত তারা মাঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন।
