আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের শেষ পর্যায়ে বড় ধাক্কা খেল বিএনপি। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগে দলটির দুজন হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে একই সময়ে ঝুলে থাকা ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর। সব আইনি বাধা কাটিয়ে তার প্রার্থিতা শেষ পর্যন্ত বহাল রাখা হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় নাগরিকত্ব নিয়ে তথ্য গোপন বা অসংলগ্নতা পাওয়ায় বিএনপির ওই দুই প্রার্থীর বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, তারা বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্য একটি দেশের নাগরিকত্বও ভোগ করছেন। বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকত্ব থাকা অবস্থায় কেউ সংসদ সদস্য পদে লড়তে পারেন না। এই আইনি মারপ্যাঁচেই শেষ পর্যন্ত তাদের নির্বাচনের লড়াই থেকে ছিটকে যেতে হলো। যদিও প্রার্থীরা দাবি করেছিলেন তারা বিদেশি পাসপোর্ট অনেক আগেই সারেন্ডার করেছেন, কিন্তু কমিশন সেই দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পায়নি।
অন্যদিকে, টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে লড়তে চাওয়া আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘক্ষণ শুনানি চলে। তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি ও অন্যান্য আইনি জটিলতার অভিযোগ তুলে প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা। তবে শুনানিতে তার আইনজীবীরা তথ্য-প্রমাণ দিয়ে লতিফ সিদ্দিকীর অবস্থান পরিষ্কার করেন। সব দিক বিবেচনা করে কমিশন তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে। ফলে প্রবীণ এই রাজনীতিকের নির্বাচনী মাঠে থাকতে আর কোনো বাধা রইল না।
বিএনপির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করা হলেও ইসি বলছে, তারা কেবল আইন মেনেই কাজ করছে। বাদ পড়া প্রার্থীরা এখন উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন কি না, তা নিয়ে আইনি মহলে আলোচনা চলছে। এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকাগুলোতে ভোটারদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির ওই দুই আসনে এখন বিকল্প প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে দলে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
