চালের বাজারে অস্থিরতা কমাতে এবং সরু চালের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বেসরকারি পর্যায়ে আরও ২ লাখ টন সিদ্ধ চাল আমদানির জন্য ২৩২ জন আমদানিকারককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ আদেশ জারি করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে মাঝারি ও মোটা চালের দাম স্থিতিশীল থাকলেও নাজিরশাইল বা মিনিকেটের মতো সরু চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের শর্ত অনুযায়ী, এই চাল আগামী ১০ মার্চের মধ্যে দেশের বাজারে পৌঁছে দিতে হবে। আমদানিকারকরা কী পরিমাণ চাল আনছেন, কতটুকু মজুত করছেন এবং কোথায় বিক্রি করছেন—তার সব তথ্য নিয়মিত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে জানাতে হবে। আমদানির ক্ষেত্রে কোনো ব্যবসায়ী বরাদ্দ করা সীমার বাইরে অতিরিক্ত চাল আনতে পারবেন না। একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, বিদেশ থেকে যে বস্তায় চাল আসবে, ঠিক সেই বস্তাতেই তা বাজারে বিক্রি করতে হবে; কোনোভাবেই নতুন করে প্যাকেটজাত করা যাবে না।
সরকারের এই নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো আমদানিকারক যদি ১০ মার্চের মধ্যে চাল বাজারজাত করতে না পারেন, তবে তার বরাদ্দ বাতিল হয়ে যেতে পারে। হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই বিপুল পরিমাণ চাল বাজারে ঢুকলে কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত দাম কমে আসতে পারে। মূলত সরু চালের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে বাজারে যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্যই দ্রুত আমদানির এই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, আসন্ন দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চালের দাম রাখা।
