অনিবন্ধিত এবং অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধে বিটিআরসি কড়া অবস্থান নেয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার ও টেরিবাজারের ব্যবসায়ীরা। গত কয়েক দিনে এই পাইকারি বাজারগুলোতে ক্রেতা সমাগম অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, তাদের গুদামে কয়েক কোটি টাকার এমন সেট রয়েছে যা এখন আর কেউ কিনতে চাচ্ছেন না। সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ ক্রেতারা হ্যান্ডসেট কেনার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। অনেক ক্রেতা শোরুমে এসে আগে আইএমইআই (IMEI) যাচাই করছেন এবং ডাটাবেজে তথ্য না পেলে ফিরে যাচ্ছেন।
বিক্রেতারা বলছেন, দেশের বাজারে থাকা সিংহভাগ ফোনই বিভিন্ন মাধ্যমে আসা এবং অনেক সময় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হতে সময় লাগে। হুট করে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করার খবরে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। খুচরা বিক্রেতারা নতুন করে অর্ডার দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন, যার প্রভাব পড়ছে আমদানিকারকদের ওপর। চট্টগ্রামের মোবাইল মার্কেটগুলোতে আগে যেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার লেনদেন হতো, সেখানে এখন সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, যারা ইতিমধ্যে পণ্য কিনে ফেলেছেন তাদের একটা নির্দিষ্ট সময় দেয়া উচিত ছিল।
পিক সিজনে এমন মন্দা চলায় অনেক দোকানের কর্মচারীদের বেতন ও দোকান ভাড়া তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিটিআরসি কঠোরভাবে বার্তা দিয়েছে যে, ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আসা কোনো ফোন নেটওয়ার্কে সক্রিয় রাখা হবে না। এই প্রক্রিয়ায় মূলত গ্রে-মার্কেটের আধিপত্য কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের যুক্তি হলো, বাজারে থাকা বিদ্যমান স্টকগুলো বিক্রি করার সুযোগ না দিলে এই খাত বড় ধরনের ধসের সম্মুখীন হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কাস্টমাররা শুধুমাত্র নামী ব্র্যান্ডের অফিশিয়াল শোরুমগুলোর দিকে ঝুঁকছেন, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের কোণঠাসা করে দিচ্ছে।
