সাবধান! আদালত ছাড়া ফোনালাপ রেকর্ড করলেই বড় বিপদ ।



এখন থেকে আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মুঠোফোনে আড়ি পাতা বা কথোপকথন রেকর্ড করা যাবে না। নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এই কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। কোনো তদন্তকারী সংস্থা বা গোয়েন্দা বিভাগ যদি মনে করে কারো ফোন রেকর্ড করা জরুরি, তবে তাদের অবশ্যই উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে উচ্চ আদালতের লিখিত অনুমতি নিতে হবে। এতদিন সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাবে বিভিন্ন সময়ে ফোন কল ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও এখন থেকে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

নতুন এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে চাইলেই কারো ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় নজরদারি করা চলবে না। যদি কোনো সংস্থা বিনা অনুমতিতে আড়ি পাতে, তবে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবেন এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। এই প্রবণতা বন্ধ করতেই আইনি কাঠামোটি আরও শক্তিশালী করা হলো।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকেও (বিটিআরসি) এই বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে যেন তারা মোবাইল অপারেটরদের ওপর কড়া নজরদারি রাখে। কোনো গোয়েন্দা সংস্থা সরাসরি মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে তথ্য চাইলে আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। এটি সংবিধানে স্বীকৃত ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার রক্ষায় একটি বড় পদক্ষেপ। এখন থেকে আড়ি পাতার সরঞ্জাম আমদানি বা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিশেষ লাইসেন্স ও তদারকির প্রয়োজন হবে।

 

Previous Post Next Post