ঋণখেলাপি ও তথ্য গোপনের দায়ে বাদ পড়ছেন অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী!


 

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ছুটির দিনেও পুরোদমে চলছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। আজ শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সারাদেশের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত থাকায় হাতে খুব বেশি সময় নেই, তাই এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে হলফনামায় তথ্য গোপন এবং ঋণখেলাপির অভিযোগে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর আবেদন বাতিল করা হয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের জমা দেওয়া নথিপত্র এবং ভোটারদের স্বাক্ষর নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করছেন। যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হচ্ছে, তাদের আপিল করার সুযোগ ও নিয়ম সম্পর্কেও তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রযুক্তির সহায়তায় অনলাইনেও অনেক তথ্য ক্রস-চেক করা হচ্ছে। ছুটির দিনেও এই কার্যক্রম চলায় প্রার্থীরাও তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে রিটার্নিং কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন। কোনো কোনো আসনে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর দেওয়া ভোটারদের তথ্যে গরমিল পাওয়ায় সেগুলো বিশেষ তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর ট্যাক্স রিটার্ন ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাবে অসামঞ্জস্য পাওয়ায় তাদের কাছে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৈধ প্রার্থীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কমিশন।

পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা তদবির ছাড়াই তারা আইন অনুযায়ী প্রতিটি মনোনয়ন যাচাই করছেন। এই পর্ব শেষ হওয়ার পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা।

Previous Post Next Post