ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর: দেশে প্রথমবারের মতো বসছে বাণিজ্যিক আদালত,


 

ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ‘বাণিজ্যিক আদালত’ গঠনের অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট আইনি জটিলতা নিরসনে বিশেষায়িত আদালত কাজ করবে। সাধারণ আদালতের দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এই আদালতগুলো কেবল বাণিজ্যিক চুক্তি, শেয়ার বাজার, ব্যাংকিং লেনদেন এবং বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে কাজ করবে। প্রতিটি বাণিজ্যিক আদালতে বিশেষজ্ঞ বিচারক নিয়োগ দেওয়া হবে যারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় প্রদানে বাধ্য থাকবেন। এতদিন বড় বড় বাণিজ্যিক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকার কারণে বিনিয়োগকারীরা যে ক্ষতির সম্মুখীন হতেন, তা এখন কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকার জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে এই বাণিজ্যিক আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। এই আদালতে মামলার শুনানির জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও অনলাইন মাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

নতুন এই আইনে মামলার রায় ঘোষণার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় বিরল। এছাড়া আপিল করার ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম অনুসরণ করা হবে যাতে কেউ অযথা সময় নষ্ট করতে না পারে। সরকার মনে করছে, এই বিশেষায়িত আদালত বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণ সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান অনেক ধাপ এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

বাণিজ্যিক বিরোধ নিরসনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর (ADR) পদ্ধতিকেও এই আদালতের অধীনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আদালতের বাইরেও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বড় বড় ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। আজ থেকেই এই অধ্যাদেশ কার্যকর করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।


Previous Post Next Post