তেহরানের রাজপথে বিক্ষোভের জোয়ার, নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ।


 

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাহেদান থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখন রাজধানী তেহরানসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনের মুখেও সাধারণ মানুষের রাজপথে অবস্থান নেওয়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে তীব্র স্লোগান দিচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জাহেদানে জুমার নামাজের পর বড় ধরনের একটি মিছিল বের হলে সেখানে প্রথম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নিরাপত্তা বাহিনী মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়লে সাধারণ মানুষ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে তেহরানের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং ব্যস্ত সড়কগুলোতেও বিক্ষোভ শুরু হয়। অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করছেন।

ইরান সরকার এই পরিস্থিতির জন্য বাইরের ইন্ধনকে দায়ী করলেও সাধারণ মানুষ বলছে, নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম আর ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের কারণেই তারা রাজপথে নেমেছে। তেহরানের মূল পয়েন্টগুলোতে সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে এবং ইন্টারনেট সেবা অনেক জায়গায় বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিশেষ বাহিনীও কাজ করছে বলে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের বিক্ষোভে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন এবং শত শত মানুষকে আটক করা হয়েছে। তেহরানের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতের বেলাতেও পাড়া-মহল্লায় প্রতিবাদের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানের এই পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে।

Previous Post Next Post