দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারা আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করার সুযোগ পাবেন। গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে চলা মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়ায় শত শত প্রার্থীর আবেদন বিভিন্ন কারণে বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। যারা এই সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হয়েছেন, তারা আজ থেকেই নির্দিষ্ট ফরমে ইসির কাছে নিজেদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে আবেদন জমা দিতে পারছেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এই আপিল গ্রহণের জন্য বিশেষ বুথ স্থাপন করেছে কমিশন।
বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীদের তালিকায় অনেক হেভিওয়েট নেতা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। ঋণখেলাপি, কর ফাঁকি, মামলার তথ্য গোপন কিংবা ভোটারদের স্বাক্ষরে গরমিলের মতো অভিযোগে এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আপিল আবেদনের পর আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে শুনানির কাজ। নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ প্রার্থীদের যুক্তি এবং নথিপত্র পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত রায় দেবেন। শুনানির প্রতিটি দিন একেকটি অঞ্চলের প্রার্থীর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে যাতে বিশৃঙ্খলা না হয়।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আপিলেও যদি কোনো প্রার্থী সন্তুষ্ট না হন, তবে তার জন্য উচ্চ আদালতের দরজা খোলা থাকবে। তবে ৯ জানুয়ারির পর আর কোনো নতুন আপিল গ্রহণ করবে না ইসি। ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব আপিলের নিষ্পত্তি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কমিশন। এরপরই চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের হার আগের চেয়ে কিছুটা বেশি হওয়ায় আপিলের ভিড়ও অনেক বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপিলের ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রার্থীকে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের মূল কপি সঙ্গে আনতে হবে। যথাযথ কারণ দর্শাতে পারলে অনেকের প্রার্থিতা আবার বৈধ হতে পারে। মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা এখন নিজেদের আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় কারা থাকছেন, তা জানতে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
