আইসল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপদ্বীপের পাহাড়ের বুক চিরে আবারও শুরু হয়েছে শক্তিশালী আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত। মাটির গভীর থেকে প্রচণ্ড বেগে বেরিয়ে আসা তপ্ত লাভা এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশের শত শত ফুট ওপর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় প্রশাসন পার্শ্ববর্তী গ্রিন্ডাভিক শহর ও বিখ্যাত ব্লু লেগুন পর্যটন কেন্দ্র থেকে সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা এত বেশি যে পাহাড়ের ফাটল দিয়ে গলিত লাভার স্রোত ঝরনার মতো নিচে নেমে আসছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভূগর্ভস্থ ভূকম্পনের ধারাবাহিকতায় এই বিস্ফোরণ ঘটেছে যা গত কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ।
অগ্নিগর্ভ লাভা ধীরে ধীরে প্রধান সড়কগুলোর দিকে এগিয়ে আসছে, যা ওই অঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। আকাশের ওপর দিয়ে বিমান চলাচলেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে কারণ ছাই ও ধোঁয়া ইঞ্জিনের ক্ষতি করতে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাতে আগ্নেয়গিরির লাল আভা বহুদূর থেকেও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে এবং বাতাসের গন্ধ বদলে গেছে। সরকার পুরো এলাকাকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে পর্যটকদের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞরা ড্রোনের মাধ্যমে লাভার গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছেন যাতে ক্ষয়ক্ষতির আগাম ধারণা পাওয়া যায়। উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন কারণ লাভার স্রোত যেকোনো সময় লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে।
আইসল্যান্ডের আবহাওয়া অফিস সতর্ক করে বলেছে, এই লাভা উদগিরণ আরও কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। মাটির নিচে ম্যাগমার চাপ এখনো অনেক বেশি থাকায় নতুন নতুন ফাটল দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অগ্নিনির্বাপক বাহিনী ও উদ্ধারকারী দলগুলো লাভা প্রবাহের পথে মাটির বাঁধ তৈরি করে বসতি রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ দেখতে বহু সাহসী মানুষ দূর থেকে ভিড় জমালেও পুলিশ তাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে বাধ্য করছে। অগ্ন্যুৎপাতের কারণে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের লাইনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
