রাখাইনে জান্তা-বিদ্রোহী তুমুল লড়াই: ওপার থেকে আসা গুলিতে টেকনাফে শিশু রক্তাক্ত


 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান ত্রিমুখী সংঘর্ষের উত্তাপ সীমান্ত পেরিয়ে আবারও বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। আজ রোববার দুপুরে রাখাইন থেকে ছোড়া লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে টেকনাফের হ্নীলা সীমান্তে এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। আহত ওই শিশুকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। সীমান্তের ওপারে গত কয়েকদিন ধরে ভারী অস্ত্র ও মর্টার শেলের বিকট শব্দে এপারের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

রাখাইনে ক্ষমতাসীন জান্তা বাহিনী, আরাকান আর্মি এবং আরও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে এই তুমুল লড়াই চলছে। ওপার থেকে আসা আগুনের ধোঁয়া এবং কামানের গোলার শব্দে টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্ত এলাকা কেঁপে উঠছে। ওপারে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার কারণে নতুন করে অনুপ্রবেশের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, নাফ নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় ওপার থেকে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে, যার ফলে তারা এখন নদীতে নামতে ভয় পাচ্ছেন। সীমান্তে বসবাসকারী পরিবারগুলো নিরাপত্তার অভাবে ঘরবাড়ি ছেড়ে দূরে কোথাও আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবছে।

বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, তারা মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে যাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো গোলা বা গুলি না আসে। তবে রাখাইনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় ওপারে প্রশাসনিক কোনো নিয়ন্ত্রণ কাজ করছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে আহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সীমান্তে স্থায়ী নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। বিগত কয়েক মাসে একাধিকবার সীমান্তের এপারে গোলা এসে পড়ার ঘটনা ঘটায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। নাফ নদের ওপর দিয়ে আসা গুলির হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই সীমান্তের কাছাকাছি কৃষিকাজ বন্ধ রেখেছেন।

Previous Post Next Post