জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশেই সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছিল। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের মৌখিক ও লিখিত নির্দেশনায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বিটিআরসি ইন্টারনেট শাটডাউন কার্যকর করে। কোটা সংস্কার আন্দোলন দমানোর অংশ হিসেবে গত ১৭ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই এবং ৫ আগস্ট পুনরায় ডেটা সার্ভিস ও ব্রডব্যান্ড বন্ধ রাখা হয়েছিল।
তদন্তে দেখা গেছে, ওই সময়ে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) সরাসরি ইন্টারনেট ট্রাফিক বন্ধের প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল। কোনো ধরণের কারিগরি ত্রুটি ছাড়াই স্রেফ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সারা দেশের মানুষকে তথ্যবিনিময় থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। বিটিআরসির সিস্টেমে ঢুকে ডেটা ভলিউম কমিয়ে দেওয়া এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের থ্রিজি ও ফোরজি সেবা বন্ধ করার পেছনে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রতিমন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধের ফলে দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত এবং ই-কমার্স ব্যবসায় যে বিশাল ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য সরাসরি তৎকালীন নীতিনির্ধারকরা দায়ী। অনেক কারিগরি বিশেষজ্ঞকে চাপ দিয়ে এই শাটডাউন প্রক্রিয়া চালানো হয়েছিল বলে সাক্ষ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া জনগণের নিরাপত্তার দোহাই দিলেও মূলত সত্য গোপন এবং আন্দোলনকারীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতেই এই কাজ করা হয়। তদন্ত কমিটি এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।
