রক্তে ভাসছে ইরান: বিক্ষোভ দমনে সরকারের নজিরবিহীন কঠোরতা


 ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়াবহ অভিযানে গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহার করায় নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযানের মাত্রা সবচেয়ে বেশি, যেখানে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় উপচে পড়লেও অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত চিকিৎসার সুযোগ মিলছে না বলে খবর পাওয়া গেছে।

আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে তথ্য আদান-প্রদান আটকে এই গণহত্যা চালাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তেহরানসহ বড় শহরগুলোর রাস্তায় সশস্ত্র যানের মহড়া চলছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়া হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পরিস্থিতিকে 'ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়' হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের বর্তমান প্রশাসন এই বিক্ষোভকে বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করে দমন-পীড়ন আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে ধরপাকড় অভিযানে গত কয়েক দিনে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষকে আটকে রাখায় বন্দীদের মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলন দমাতে সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুমকি দিলেও সাধারণ মানুষ দমে না গিয়ে রাজপথে অবস্থান ধরে রেখেছেন। বিভিন্ন জায়গায় সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। সব মিলিয়ে ইরান এখন এক অনিশ্চিত রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

Previous Post Next Post