আমদানিতে লাগাম টানছে যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্ববাজারে কি বড় মন্দার সংকেত?


 আজকের বিশ্ব বাণিজ্যের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-রপ্তানির ধরনে বেশ বড় পরিবর্তন এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তাদের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়ায় চীন থেকে পণ্য আমদানির পরিমাণ আগের তুলনায় প্রায় ৫% কমিয়ে এনেছে। অন্যদিকে, চীন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে, বিশেষ করে ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের সাথে তাদের ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশের লেনদেন এখন তুঙ্গে। ইউরোপের বাজারে জার্মানি তাদের অটোমোবাইল শিল্পে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে রপ্তানি আয় ধরে রাখার চেষ্টা করছে, যদিও জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। ভারত বর্তমানে আইটি সেবা এবং কৃষি পণ্য রপ্তানিতে রেকর্ড গড়ছে, যার বড় একটি অংশ যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এদিকে রাশিয়া তাদের খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এশিয়ার দেশগুলোতে অপেক্ষাকৃত কম দামে সরবরাহ করে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রেখেছে। ব্রাজিল থেকে সয়াবিন ও ভুট্টা আমদানির জন্য এখন ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। জাপান তাদের রোবোটিক্স ও উচ্চপ্রযুক্তি সম্পন্ন মেশিনারিজ রপ্তানিতে এখনো বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া তাদের খনিজ সম্পদ, বিশেষ করে আকরিক লোহা রপ্তানির মাধ্যমে আয়ের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী রেখেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তাদের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখলেও কাঁচামাল আমদানিতে আগের চেয়ে বেশি খরচ গুনছে।

Previous Post Next Post