১৮ জানুয়ারির অর্থনৈতিক রিপোর্ট: আপনার পকেটে এর কী প্রভাব পড়বে?


 ২০২৬ সালের শুরুতে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক বড় ধরণের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ১৮ জানুয়ারি পাওয়া সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ কমলেও সুদের হার নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের নতুন সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীরা বেশ চিন্তিত। অন্যদিকে, চীন তাদের আবাসন খাতের সংকট কাটাতে নতুন করে বিশাল অংকের আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, যার প্রভাব এশিয়ার পুঁজিবাজারে স্পষ্ট। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানির শিল্প উৎপাদনে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা পুরো ইউরোজোনের প্রবৃদ্ধিকে শ্লথ করে দিয়েছে। যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় সামান্য কমলেও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এখনো আগের অবস্থায় ফেরেনি। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেশ ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং তারা প্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন রেকর্ড গড়ছে। জাপানের ইয়েনের মান ডলারের বিপরীতে কিছুটা শক্তিশালী হওয়ায় তাদের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে তাদের অর্থনীতির ভিত্তি আরও মজবুত করছে। রাশিয়ার অর্থনীতি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়িয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। ব্রাজিলের কৃষি পণ্য রপ্তানি এ বছর লাতিন আমেরিকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে রেখেছে। তবে আফ্রিকার দেশগুলোতে মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে আজকের বিশ্ব বাজারে একদিকে যেমন প্রযুক্তিনির্ভর উন্নতির জোয়ার চলছে, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতি আর ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাজারকে অস্থিতিশীল করে রাখছে।

Previous Post Next Post