২০০৮ নির্বাচনে শেখ হাসিনার বড় জালিয়াতি? বেরিয়ে এলো হলফনামার গোপন তথ্য


 সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামায় ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন বলে নতুন এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। ওই নির্বাচনে তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, সম্পদ এবং ব্যক্তিগত তথ্যের বিষয়ে যে বিবরণ দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে বাস্তব তথ্যের ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, হলফনামার নির্দিষ্ট কিছু কলামে তিনি এমন সব তথ্য যোগ করেছিলেন যা তৎকালীন আইনি বাধ্যবাধকতার স্পষ্ট লঙ্ঘন ছিল। বিশেষ করে তার আয়ের উৎস এবং কর সংক্রান্ত তথ্যে অস্বচ্ছতা ছিল যা এতদিন আড়ালে ছিল।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া নথিতে তিনি নিজের ওপর থাকা বেশ কিছু মামলার তথ্য গোপন করেছিলেন। আইন অনুযায়ী প্রতিটি প্রার্থীর নামে থাকা বর্তমান ও অতীতের সব মামলার তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও শেখ হাসিনা কৌশলে তা এড়িয়ে গেছেন। হলফনামার এই মিথ্যাচার প্রমাণিত হলে ওই সময়েই তার প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবে বিষয়টি তখন ধামাচাপা দেওয়া হয়। তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই নথিপত্রগুলো যাচাই-বাছাই ছাড়াই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

বর্তমানে বিভিন্ন দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা এবং তদন্তকারী দল ২০০৮ সালের সেই পুরনো নথিগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখছে। হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়াকে একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। এই নতুন তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে নতুন আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া কেবল নৈতিক স্খলন নয়, এটি নির্বাচনি আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। এই নথিপত্রগুলো জনসমক্ষে চলে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

Previous Post Next Post