ইসরায়েলে গণঅভ্যুত্থানের সুর: গদি বাঁচাতে কতদূর যাবেন নেতানিয়াহু?


 ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে তেল আবিবসহ দেশটির প্রধান শহরগুলো। গতকাল শনিবার রাতে তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু সরকার গত ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার ঘটনায় নিজেদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করতে নারাজ। তারা অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন, যা সরকার শুরু থেকেই এড়িয়ে যাচ্ছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং গাজায় এখনো জিম্মি থাকা ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারের অযোগ্যতার বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীদের মতে, ব্যক্তিগত ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু জিম্মি উদ্ধার ও যুদ্ধবিরতির চেয়ে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পুলিশের বাধা ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই রাজপথে নামে বিক্ষুব্ধ জনতা। সেখানে ইসরায়েলের প্রাক্তন প্রতিরক্ষা প্রধান মোশে ইয়ালন উপস্থিত থেকে সরকারের কড়া সমালোচনা করেন এবং বর্তমান প্রশাসনকে একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেন।

এদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে নতুন মেরুকরণ। বিক্ষোভ আন্দোলনের মূল কয়েকজন নেতা ইতিমধ্যে বামপন্থী 'ডেমোক্র্যাটস' দলে যোগ দিয়েছেন, যা সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যতক্ষণ না নেতানিয়াহু পদত্যাগ করছেন এবং দেশে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা আসছে, ততক্ষণ এই আন্দোলন থামবে না। দুর্নীতির মামলা থেকে বাঁচতে বিচারব্যবস্থায় রদবদলের চেষ্টার অভিযোগও এই জনরোষের অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।

Previous Post Next Post