বিস্ফোরণগুলোর পরপরই কারাকাসের আকাশে নিচু দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়ে যেতে দেখা গেছে। শহরের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত দেশটির প্রধান সামরিক ঘাঁটি 'ফুয়ের্তে তিউনা' এবং গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি 'লা কার্লোটা' থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। এই হামলায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট প্যালেস সংলগ্ন এলাকাও প্রকম্পিত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছেন, তাঁর নির্দেশেই ভেনেজুয়েলার সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরে চলা মাদক পাচার ও জাতীয় নিরাপত্তার হুমকির প্রেক্ষাপটে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেছেন যে, বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন বাহিনী আটক করেছে এবং তাঁদের নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, নিকোলাস মাদুরোর সরকার এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের "নগ্ন আগ্রাসন" হিসেবে অভিহিত করে সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘকে দ্রুত জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। হামলার পর ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ও বিদেশি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন।
বর্তমানে কারাকাসসহ ভেনেজুয়েলার প্রধান শহরগুলোতে অতিরিক্ত সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আমেরিকার ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি (FAA) ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় মার্কিন বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
