ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। আজ সকালে দেশটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জনবহুল এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। স্থানীয় উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে আছেন, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাধারণ মানুষের বসতি এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কোনো সতর্কতা ছাড়াই একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে ঘরবাড়ির ওপর। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত এক কর্মী বলেন, "আমরা এখন পর্যন্ত ২০টি মরদেহ উদ্ধার করেছি, যার মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।" আহতের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তবে চিকিৎসার পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাবে তাদের প্রাণ বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
সৌদি জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযানটি ছিল হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে। তাদের দাবি, বিদ্রোহীরা ওই এলাকাগুলোকে অস্ত্র মজুত করার কাজে ব্যবহার করছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এই দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, হামলায় কেবল নিরপরাধ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ইয়েমেনের হাসপাতালগুলো বর্তমানে রক্ত ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকটে ভুগছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। যুদ্ধের কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকা থেকে আহতদের হাসপাতালে আনা সম্ভব হচ্ছে না। আজকের এই হামলার পর পুরো এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
