২০২৬-এ বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ দেশ কোনটি? জেনে নিন স্বাস্থ্য তালিকার শীর্ষে যারা!


 আজকের বিশ্বে স্বাস্থ্যসেবা একদিকে যেমন প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আধুনিক হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধ আর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কিছু দেশে পরিস্থিতি বেশ নাজুক হয়ে পড়েছে। ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিল স্বাস্থ্য খাতে বড় সাফল্য দেখিয়েছে; দেশটি মা থেকে শিশুর দেহে এইচআইভি সংক্রমণ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় তাইওয়ান এবং সিঙ্গাপুর তাদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে, যেখানে জনগণের গড় আয়ু এবং চিকিৎসার মান অবিশ্বাস্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে সুদান এবং গাজা উপত্যকায়, যেখানে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে সাধারণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ফিনল্যান্ড এবং নরওয়ে তাদের শক্তিশালী স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রশংসিত হচ্ছে, বিশেষ করে মহামারি পরবর্তী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা এখন বিশ্বের সবচেয়ে প্রস্তুত দেশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে আধুনিক চিকিৎসা থাকলেও স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান খরচ সাধারণ মানুষের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ড তাদের সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে অনেক উন্নত দেশকেও পেছনে ফেলেছে। তবে বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশ ও ভারত বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে, বিশেষ করে শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ এসব দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে কেনিয়া এবং রুয়ান্ডা তাদের নিজস্ব রোগ নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে নতুন চুক্তি করেছে, যা ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে বড় কোনো রোগের বিস্তার রোধে কাজ করবে। মিশর বর্তমানে তাদের জরুরি সেবা বিভাগগুলোকে আরও উন্নত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে মিলে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে। এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় দেশগুলোতে নতুন নতুন পানিবাহিত রোগের সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে, যা ২০২৬ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে এক নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ করেছে। প্রতিটি দেশই এখন তাদের স্বাস্থ্য অবকাঠামো ডিজিটাল করার দিকে ঝুঁকছে যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারে।

Previous Post Next Post