৯৪০ কোটি ডলারের বিশাল ঘাটতি! অর্থনীতির চাকা কি উল্টো ঘুরছে?


 বিশ্ব অর্থনীতির চাকা ২০২৬ সালে এসে বেশ ধীরগতিতে ঘুরছে, যার বড় প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। রাষ্ট্রপুঞ্জ ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, এ বছর বিশ্ব বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি কমে ২.২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। বিশেষ করে বড় দেশগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা শুল্ক যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা পণ্য আদান-প্রদানকে কঠিন করে তুলেছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষে ডিজিটাল সেবা বিক্রি বাড়লেও সশরীরে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেক দেশই এখন হিমশিম খাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এখন রক্ষণশীলতার হাওয়া বইছে। নিজেদের শিল্প বাঁচাতে দেশটি আমদানির ওপর চড়া শুল্ক বসানোয় ২০২৬ সালে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১.৫ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই দশা চীনেরও; আবাসন সংকট আর বৈশ্বিক চাহিদা কমায় তাদের প্রবৃদ্ধি ৪.৬ শতাংশে আটকে থাকতে পারে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের সাথে বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তুতি নিলেও নিজেদের বাজারে চাহিদা মন্দা থাকায় তাদের রপ্তানি আয় খুব একটা বাড়ছে না। তবে ভিয়েতনাম ও মেক্সিকো এই সুযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প বাজার হিসেবে বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের অবস্থা তুলনামূলক স্থিতিশীল। অভ্যন্তরীণ বিশাল বাজার আর সরকারি বিনিয়োগের ওপর ভর করে তারা ৬.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন; গত পাঁচ মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৪০ কোটি ডলারে। রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে, চলতি জানুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহেই ১৭০ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন তারা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যেও মুদ্রার বিনিময় হারের কারণে খরচ কিছুটা বেড়েছে, যেমন আজ ডলারের বিপরীতে টাকার মান ১২২ টাকা ৩৫ পয়সা।

আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতেও বাণিজ্যের গতি খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। উচ্চ ঋণের বোঝা আর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব দেশের রপ্তানি পণ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সারা বিশ্বে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের ব্যবহার বাড়ছে, যার ফলে সস্তা শ্রমের দেশগুলো তাদের আগের সুবিধা হারাতে শুরু করেছে। মূলত ধনী দেশগুলো এখন ডিজিটাল সেবার দিকে ঝুঁকছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের মোট সেবার প্রায় ৫৬ শতাংশ দখল করে নিয়েছে। এই অসম প্রতিযোগিতায় স্বল্পোন্নত দেশগুলো ডিজিটাল বাণিজ্যে মাত্র ১৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে পিছিয়ে পড়ছে।

Previous Post Next Post