হোয়াইট হাউসের দোরগোড়ায় মোদি, ট্রাম্প কি ফেরাবেন খালি হাতে?


 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে দেখা করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কূটনৈতিক মহলে খবর চাউর হয়েছে যে, ট্রাম্পের সাক্ষাৎ পেতে রীতিমতো ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন মোদি। হোয়াইট হাউসের নতুন প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক ঝালাই করে নিতেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই তাড়াহুড়ো। যদিও ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মোদির এই অনুরোধের কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

গত কয়েকদিনে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে একাধিকবার ওয়াশিংটনের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। মোদি চাইছেন ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের পরপরই অথবা তার আগে একান্ত বৈঠকে বসতে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যস্ত শিডিউল এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চাপে মোদির এই প্রস্তাব ঝুলে আছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আপাতত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে বৈঠকের চেয়ে নিজের ক্যাবিনেট গোছানোতেই বেশি মনোযোগী মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ভারতের জন্য এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ ট্রাম্পের আমদানিশুল্ক নীতি নিয়ে মোদি সরকার বেশ দুশ্চিন্তায় আছে। ট্রাম্প আগে থেকেই ভারতকে 'ট্যারিফ কিং' বা উচ্চ শুল্ক আদায়কারী দেশ হিসেবে সমালোচনা করে আসছেন। তাই সরাসরি কথা বলে এই সংকট কাটাতে চাইছেন মোদি। তবে ট্রাম্পের উদাসীনতা মোদি সরকারের জন্য এক ধরণের কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করেছে।

দিল্লির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হতে পারে, তবে ওয়াশিংটনের নীরবতা অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির কারণে মোদির সাথে তাঁর আগের সেই ব্যক্তিগত সখ্যতা এবার কাজ করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ট্রাম্প এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দেশের নেতার ব্যাপারেও তেমন আগ্রহ দেখাননি। এই পরিস্থিতিতে মোদির এই বারবার অনুরোধকে অনেকেই দুর্বল কূটনীতি হিসেবে দেখছেন।

Previous Post Next Post