ভোটের নিরাপত্তায় কঠোর অ্যাকশন: ৭ দিনের জন্য নামছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ


 আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সারাদেশে সাত দিনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ভোটের আগে ও পরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে এবং সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সভায় নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব পালনের এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।

নিরাপত্তা পরিকল্পনায় জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন। তারা প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেবেন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়া র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরাও নিয়মিত টহল দেওয়ার পাশাপাশি ঝোঁপ বুঝে পরিস্থিতির সামাল দেবেন। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে এবং আশেপাশে শান্তি বজায় রাখতে আনসার বাহিনীর একটি বিশাল অংশ মোতায়েন থাকবে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অস্ত্র চোরাচালান বন্ধ করা যায়।

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, ৭ দিনের এই মেয়াদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুধুমাত্র নিরাপত্তা দেবে না, বরং নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে। স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি অতিরিক্ত সশস্ত্র পুলিশ পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোট শেষে ব্যালট বাক্স গণনা এবং তা নিরাপদে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছানো পর্যন্ত এই বাহিনী মোতায়েন থাকবে। কোনো প্রকার অরাজকতা বা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Previous Post Next Post