দীর্ঘ কয়েক বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে পাকিস্তানের সাথে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে আকাশপথে যাতায়াতের চাহিদা বাড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই ঢাকা ও করাচির মধ্যে নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে সপ্তাহে অন্তত তিনটি ফ্লাইট চালানোর পরিকল্পনা করছে এয়ারলাইন্সগুলো। এতে করে দুই দেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে যেতে হলে দুবাই বা কাতার হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়, যা বেশ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে যাতায়াতের সময় বর্তমানের ১২-১৫ ঘণ্টা থেকে কমে মাত্র ৩-৪ ঘণ্টায় নেমে আসবে। শুধু সরকারি এয়ারলাইন্স নয়, বেশ কিছু বেসরকারি বিমান সংস্থাও এই রুটে ডানা মেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের ফলে দুই দেশের পর্যটন ব্যবসায় নতুন গতি ফিরবে। বিশেষ করে যারা ধর্মীয় বা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের জন্য পাকিস্তানে যেতে চান, তাদের জন্য এটি বড় সুযোগ।
বাণিজ্যিক দিক থেকেও এই রুটের গুরুত্ব অনেক বেশি কারণ দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি বাড়াতে দ্রুত যোগাযোগ মাধ্যম অপরিহার্য। আকাশপথে সরাসরি পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে পোশাক শিল্প ও চামড়াজাত পণ্যের ব্যবসায়ীরা দারুণভাবে লাভবান হবেন। ভিসার প্রক্রিয়া সহজতর করার বিষয়েও দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। যাত্রীদের চাপ বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে ঢাকা-ইসলামাবাদ এবং ঢাকা-লাহোর রুটেও ফ্লাইট চালু হতে পারে। ফ্লাইট শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ ও টিকিটের মূল্য আগামী সপ্তাহেই সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
