লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফ'র গুলিতে মো রনি (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল দিবাগত গভীর রাতে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের ফাসিরকুটি সীমান্তে এই ঘটনা ঘটে। আহত লুৎফর রহমান ওই এলাকারই দোয়ানী গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। সীমান্ত পার হয়ে গরু আনতে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লুৎফরসহ কয়েকজন যুবক সীমান্তের শূন্য রেখার কাছে গেলে কোচবিহার জেলার ১২৪ ব্যাটালিয়নের শিতলকুচি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা টহল দিচ্ছিল। কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই বিএসএফ সদস্যরা গুলি শুরু করলে লুৎফরের শরীরে গুলি লাগে। তার সঙ্গীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত লোকালয়ে নিয়ে আসে। বর্তমানে তাকে গোপনে একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।
এই ঘটনার পর থেকে ওই সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সীমান্তে বিএসএফের পক্ষ থেকে বিনা উসকানিতে গুলি চালানো হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
বিএসএফ দাবি করেছে, চোরাকারবারিরা তাদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করায় তারা আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়েছে। তবে বাংলাদেশি পক্ষ থেকে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। লুৎফরের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি কেবল গরু আনতে গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের সংঘাতের ইচ্ছা তার ছিল না। গত কয়েক মাসে এই সীমান্তে বিএসএফের গুলির ঘটনা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

