জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আগামী রোববার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই সংক্রান্ত মামলার আবেদনটি জমা পড়ার পর আদালত শুনানির জন্য এই সময় নির্ধারণ করেন। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের ওপর নৃশংসতা চালানোর খবর যেন বিশ্ববাসী জানতে না পারে, সেজন্য পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এই ব্ল্যাকআউট চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তাঁর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই শাটডাউন কার্যকর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ করার ফলে সাধারণ মানুষ একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি এবং আহতদের উদ্ধারকাজেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছিল। ডিজিটাল মাধ্যমে এই অপরাধ সংঘটনের তথ্য-প্রমাণ ও দালিলিক নথিপত্র ইতিমধ্যেই ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। রোববার প্রসিকিউশন পক্ষ এই অভিযোগের পক্ষে তাদের প্রাথমিক যুক্তি উপস্থাপন করবেন।
ইন্টারনেট বন্ধের মাধ্যমে গণহত্যা আড়াল করার এই মামলাটি দেশের ইতিহাসে প্রথম এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছেন, পলক ও জয়ের পরিকল্পনায় ডাটা সেন্টার পুড়িয়ে দেওয়ার নাটক সাজিয়ে মূল অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল এই মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির পথ প্রশস্ত হতে পারে। রোববারের এই শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

