২০২৬ সালের শুরুতেই বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধরনের মিশ্র গতি লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বিশ্বের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২.৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। বিশেষ করে বড় দেশগুলোর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের বাণিজ্য লড়াইয়ের প্রভাবে বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর মাঝেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বেশ শক্ত অবস্থানে আছে এবং দেশটির প্রবৃদ্ধি ২.২ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা কম থাকায় চীনের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৪.৪ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে বেশ চনমনে এবং দেশটি ৪.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানির অবস্থা খুব একটা সুবিধাজনক নয়, তাদের প্রবৃদ্ধি ১.৩ শতাংশের আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। জাপানের অর্থনীতি ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ঘরে থাকলেও খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ব্রিটেনের প্রবৃদ্ধি কিছুটা আশাবাদী অবস্থানে থাকলেও ফ্রান্স এবং ইতালির অর্থনীতি ধুঁকছে।
এদিকে বাংলাদেশের জন্য সুখবর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার ফলে এ বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৬ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। উদীয়মান দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিল এবং মেক্সিকো তাদের বাণিজ্য নীতিতে বদল এনে ২.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। সারা বিশ্বে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা কমলেও জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের কপালে এখনো চিন্তার ভাঁজ। রাশিয়ার অর্থনীতি ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের গণ্ডি স্পর্শ করলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালটি উন্নত দেশগুলোর জন্য টিকে থাকার লড়াই হলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
