২০২৬ সালের শুরুতেই বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরণের অস্থিরতা আর পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য তহবিলে বড় ধরণের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, কারণ সংস্থাটির বার্ষিক বাজেটের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসত মার্কিন পকেট থেকে। এর ফলে ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা ও এইডসের মতো রোগের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে ব্রাজিলে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ৩১.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। বিপরীতে ইতালি ও ফ্রান্সের মতো ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোতে হৃদরোগের ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে, যার মূল কারণ হিসেবে তাদের স্বাস্থ্যকর ডায়েটকে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে আবার ভিন্ন সংকট; নেদারল্যান্ডস ও জার্মানিসহ ওই অঞ্চলের দেশগুলোতে ৪৩ শতাংশের বেশি মানুষ ভিটামিন ডি-এর অভাবে ভুগছেন। জার্মানিতে থাইরয়েডজনিত সমস্যার হার ১৯.৮ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত করেছে মার্কিন প্রশাসন, যার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে আবেদনকারীদের শারীরিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিকে দায়ী করা হচ্ছে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তন আনতে 'জাতীয় স্বাস্থ্য কার্ড' চালুর পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৬১ লাখ প্রবীণ নাগরিকের পরিবার বছরে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুবিধা পাবে। তবে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশকে 'সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকি'র তালিকায় রাখা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে স্থূলতা কমানোর ওষুধের পেটেন্ট ২০২৬ সাল থেকে উন্মুক্ত হতে শুরু করায় ভারত ও চীনে সুলভ মূল্যে এসব ওষুধ পাওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
