ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চীনের বিশ্ব রেকর্ড!


 যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতি আর বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যেও ২০২৬ সালের শুরুতেই বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরণের চমক দেখিয়েছে চীন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সাল জুড়ে চলা নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৪ জানুয়ারি প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া শুল্কের চাপ সামলাতে চীন এখন মার্কিন বাজারের বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে বেশি ঝুঁকছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ান (ASEAN) এখন চীনের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারে পরিণত হয়েছে।

এদিকে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যান্য বড় শক্তিগুলোর অবস্থা বেশ মিশ্র। ভারতের অর্থনীতিতে তেজি ভাব বজায় থাকলেও চাল রপ্তানির মতো ক্ষেত্রগুলোতে তারা বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ১৪ জানুয়ারি ভারত থেকে চালের একটি বড় চালান বাংলাদেশে পৌঁছানোর খবর পাওয়া গেছে, যা দুই দেশের খাদ্য বাণিজ্যে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। তবে ইউরোপের দেশগুলো কিছুটা চাপে রয়েছে; আমেরিকার সম্ভাব্য শুল্ক বৃদ্ধি আর জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ১.৩ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ। জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো এখন তাদের সাপ্লাই চেইন সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

জাপানের মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে, ইয়েনের মান গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় দেশটির আমদানি ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া ও চীন তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এখন আর্কটিক মহাসাগরকে বেছে নিচ্ছে, যা বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যে নতুন এক মেরুকরণ তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিশেষ করে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে শুল্ক যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিল কৃষি পণ্যে ভালো করলেও ভেনিজুয়েলায় মার্কিন সামরিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় ওই অঞ্চলের জ্বালানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোও ঋণের বোঝা আর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পিছিয়ে পড়ছে।

Previous Post Next Post