শেষ পর্যন্ত বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব? গুম কমিশনের সুপারিশে তোলপাড়

 



গুমের মতো ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিশন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিশন জানিয়েছে, এই বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুমের অসংখ্য অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে এই বাহিনীকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কমিশন মনে করে, বিদ্যমান কাঠামোতে র‍্যাবকে সংস্কার করা অসম্ভব, তাই এটি পুরোপুরি বিলুপ্ত করাই শ্রেয়। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকেও দীর্ঘদিন ধরে এই বাহিনী বিলুপ্তির দাবি জানানো হচ্ছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, র‍্যাবের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত সদস্যরা নির্দিষ্ট চেইন অফ কমান্ডের বাইরে গিয়েও গুমের মতো অপরাধ ঘটিয়েছে। এসব ঘটনায় বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ মদদ ছিল বলে প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। আয়নাঘরের মতো গোপন বন্দিশালা পরিচালনায় এই বাহিনীর সম্পৃক্ততা ছিল সবচেয়ে ভীতিজাগানিয়া। কমিশনের মতে, রাষ্ট্রের ভেতরে আলাদা একটি বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করেছিল এই সংস্থাটি। বাহিনীর সদস্যদের অপরাধের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

র‍্যাব বিলুপ্তির পাশাপাশি এই বাহিনীর সম্পদ ও অবকাঠামো অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বাহিনী এমন নিয়ন্ত্রহীন ক্ষমতা ভোগ করতে না পারে, সেজন্য কঠোর আইনি কাঠামো প্রয়োজন। ইতোমধ্যে এই সুপারিশের অনুলিপি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি কার্যকর হলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এই কঠোর সুপারিশ বাস্তবায়নে কতটুকু দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

Previous Post Next Post