ক্ষমতা ছাড়তে কতটা প্রস্তুত অন্তর্বর্তী সরকার? বড় বার্তা দিলেন ড. ইউনূস


 অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বর্তমান সরকার কেবল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য আসেনি, বরং প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করেই তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় চলে যাবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে কেউ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে।

রাষ্ট্র সংস্কারের কাজগুলো সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই নির্বাচনের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তাকে বাস্তবে রূপ দিতেই সরকার কাজ করছে। বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ড. ইউনূস বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বাংলাদেশে এখন কোনো বিশেষ দলের আধিপত্য থাকবে না, বরং সাধারণ মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে।

সরকার এখন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত একটি প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার পরই ভোট আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রধান উপদেষ্টা বিদেশি বন্ধুদের উদ্দেশে বলেন, "আমরা একটি ইনক্লুসিভ সমাজ গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে।" আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারকে সব ধরণের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সংস্কার শেষ করে গণতন্ত্রের পথে ফেরার এই ঘোষণাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

Previous Post Next Post