ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরেই ইসরায়েল বিরোধী একটি মুসলিম শাখাকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে তিনি এই কড়া পদক্ষেপের কথা জানান। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উগ্রবাদ দমনের অজুহাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এই মুসলিম শাখাটি দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিন ইস্যুতে সোচ্চার ছিল এবং ইসরায়েলি দখলদারিত্বের কড়া সমালোচনা করে আসছিল। ট্রাম্পের দাবি, এই সংগঠনটি পর্দার আড়াল থেকে নাশকতা এবং উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে মদদ দিচ্ছে। নতুন এই ঘোষণার ফলে সংগঠনটির সব ধরণের আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদেরও আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আরব দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা সরাসরি ইসরায়েলের বিরোধিতা করে আসছে, তারা এই ঘোষণাকে পক্ষপাতমূলক হিসেবে দেখছে। ট্রাম্প আগে থেকেই ইসরায়েলের কড়া সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং দ্বিতীয় মেয়াদে এসেও তিনি সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট করলেন।
এদিকে এই ঘোষণার প্রতিবাদে বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, কোনো শক্তিশালী তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়া অন্যায়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তারা এমন আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছুপা হবে না। এই ঘোষণার ফলে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল ইস্যুতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
