ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত এখন 'মরণফাঁদ': ৮৭ কিলোমিটারে চলছে অস্ত্র-মাদকের কারবার


 ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা বর্তমানে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে বিজয়নগর, কসবা এবং আখাউড়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে রাতের আঁধারে দেদারসে ঢুকছে ফেন্সিডিল, ইয়াবা এবং বিদেশি পিস্তল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তের কাঁটাতার বিহীন বেশ কিছু পয়েন্ট দিয়ে ভারতীয় চোরাকারবারিরা অতি সহজেই এই নিষিদ্ধ পণ্যগুলো বাংলাদেশে পৌঁছে দিচ্ছে। এসব অবৈধ পণ্য পাচারে সীমান্ত এলাকার এক শ্রেণির যুবক ও প্রভাবশালী চক্র সরাসরি জড়িত বলে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক মাসে সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হলেও অস্ত্র পাচার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাচারকারীরা দুর্গম পাহাড়ী এলাকা এবং নদীর পথ ব্যবহার করায় নজরদারি এড়িয়ে যাচ্ছে। অবৈধ এসব অস্ত্র চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অপরাধী চক্রের হাতে, যা জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা টহল জোরদার করলেও ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে সব পয়েন্টে পাহারা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পরেই মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানিদের তৎপরতা বেড়ে যায়। অনেক সময় সীমান্ত ঘেঁষা জিরো পয়েন্টে মাদক কেনাবেচার হাট বসে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাচার করা পণ্যগুলো পরে ছোট ছোট চালানে ভাগ করে বিভিন্ন মাধ্যমে রাজধানীসহ সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পাচার সিন্ডিকেট নির্মূল করতে সমন্বিত গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Previous Post Next Post