ঋণখেলাপি ও বিল বাকি থাকলেই বিপদ, ইসি দিচ্ছে কড়া বার্তা,


 

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ঋণখেলাপি, বিল খেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের মতো বিষয়গুলোকে মনোনয়নপত্র বাতিলের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধ না করার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার প্রার্থীতা সরাসরি বাতিল করা হবে। এছাড়া বিদ্যুৎ, পানি বা গ্যাস বিল বকেয়া থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া হলফনামায় তথ্যের গড়মিল বা সত্য গোপন করাকেও এবার বড় অপরাধ হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রার্থীর বার্ষিক আয়, সম্পদের বিবরণ এবং ফৌজদারি মামলার তথ্য ভুল দিলে কমিশন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে। যদি কোনো প্রার্থী অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে থাকেন এবং তা গোপন করেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাবে।

তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থীর সপক্ষে ভোটারদের সমর্থনের স্বাক্ষর যাচাইয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না হলে বা জাল প্রমাণিত হলে তাদের মনোনয়নপত্র টেকবে না। এছাড়াও সরকারি লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিরা নিয়ম অনুযায়ী পদত্যাগ না করে নির্বাচনে দাঁড়ালে তাদের আবেদনও খারিজ করা হবে।

নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের প্রধান বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির সই না থাকলে সেই আবেদন গ্রহণ করা হবে না। প্রতিটি প্রার্থীর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রমাণপত্র থাকাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন। কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতেই যাচাই-বাছাইয়ের এই কড়াকড়ি।

Previous Post Next Post