বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্যের উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের রদবদল নিয়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের কৃষিবর্ষ। এবারের মৌসুমে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা রেকর্ড পরিমাণ সয়াবিন ও গম উৎপাদনের পথে থাকলেও রাশিয়া ও চীনের কৃষিখাতে মিশ্র প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে সয়াবিন চাষের এলাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটি এবার বিশ্ববাজারে নিজেদের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করার আভাস দিয়েছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা তাদের গমের ফলনে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আশা করছে, যা দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে পারে।
রাশিয়ায় এবারের শীতকালীন ও বসন্তকালীন গমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৮৯.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন, যা গত বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। তবে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে গমের রপ্তানি কিছুটা কমার আশঙ্কা রয়েছে। চীনের কৃষিখাতে এখন আধুনিক প্রযুক্তির জয়জয়কার; দেশটি ২০২৬ সালে বড় ধরনের কৃষি শুমারির প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তাদের ভুট্টার ফলন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ভারত তাদের তুলা উৎপাদনে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে; অসম বৃষ্টিপাতের কারণে এবার তুলার ফলন ৫ বছরের গড় উৎপাদনের চেয়ে প্রায় ৭ শতাংশ কম হতে পারে।
এশিয়ার অন্যতম চাল রপ্তানিকারক দেশ ভিয়েতনাম তাদের কৌশল বদলে পরিবেশবান্ধব ও কম কার্বন নিঃসরণকারী ধান চাষে জোর দিচ্ছে। দেশটি ২০২৬ সালের মধ্যে কৃষি ও বনজ পণ্য রপ্তানি করে ৭৩ থেকে ৭৪ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে উত্তর আমেরিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা ভুট্টা ও সয়াবিন বিক্রিতে বিশ্ববাজারের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে, যার ফলে দেশটিতে এসব শস্যের মজুত বাড়ছে। আফগানিস্তান, সোমালিয়া এবং সিরিয়ার মতো দেশগুলোতে তীব্র খাদ্য সংকটের পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, যেখানে পর্যাপ্ত বীজের অভাব ও সংঘাত কৃষি উৎপাদনকে ব্যাহত করছে। সামগ্রিকভাবে ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে কৃষিতে অটোমেশন এবং ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়ছে যাতে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা যায়।
