বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ওলটপালট: ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিতে কাঁপছে বাজার!


 ২০২৬ সালে বিশ্ব বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতিতে এক ধরনের ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৬ শতাংশে থিতু হতে পারে, যা গত বছরের চেয়ে কিছুটা কম। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো বড় বাজারগুলো তাদের আগের গতি হারিয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক লেনদেনে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি বাণিজ্যিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবার গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের স্বার্থের বিরোধী দেশগুলোর পণ্যের ওপর বাড়তি ট্যারিফ বসানোর পরিকল্পনা করছে। এতে করে মার্কিন অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের আশেপাশে থাকলেও আন্তর্জাতিক রফতানি বাজারে বড় ধরনের ওলটপালট হতে পারে।

এদিকে চীন নিজের অর্থনীতি সামলাতে রফতানি নির্ভর মডেলের ওপর আরও বেশি জোর দিচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও দেশটি এশিয়া এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৬ সালে চীনের প্রবৃদ্ধি ৪.৬ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে তাদের সস্তা পণ্যের দাপটে অন্যান্য দেশের স্থানীয় শিল্পগুলো চাপের মুখে পড়েছে। ভারতের জন্য এ সময়টা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে চাবাহার বন্দর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন করে দরকষাকষি করতে হচ্ছে তাদের। ভারত একদিকে যেমন ইরান থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু করেছে, অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর শুল্ক নীতি থেকে নিজেদের বাঁচাতে বিকল্প পথ খুঁজছে। ভারতের অর্থনীতি ৬.৬ শতাংশ হারে বাড়লেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং বিনিয়োগই এখন তাদের প্রধান ভরসা।

ভিয়েতনাম এ বছর বিশ্ব বাণিজ্যে চমক দেখাচ্ছে এবং দেশটি বিশ্বের শীর্ষ ১৫টি বাণিজ্যিক দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। গত এক বছরে তাদের মোট বাণিজ্য ৯২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি বড় উদাহরণ। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো মার্কিন শুল্ক নীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে রফতানি বাজারে বড় ধাক্কা খাচ্ছে। তাদের প্রবৃদ্ধি মাত্র ১.৩ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। সৌদি আরব তাদের খনিজ খাত থেকে বড় আয়ের মুখ দেখছে এবং সম্প্রতি দেশটি চারটি খনি থেকে বিশাল পরিমাণ সোনা উত্তোলনের ঘোষণা দিয়েছে। সার্বিকভাবে ২০২৬ সালের এই সময়ে বিশ্ব বাণিজ্য মুক্তবাজার অর্থনীতির চেয়ে বরং সংরক্ষণবাদ বা নিজেদের বাজার রক্ষার লড়াইয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করছে

Previous Post Next Post