২০২৬ সালে এসে বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খ্রিস্টধর্ম এখনো বিশ্বের বৃহত্তম ধর্ম হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে, যেখানে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩১ শতাংশ বা ২৪০ কোটির বেশি মানুষ এই বিশ্বাসের অনুসারী। তবে ইসলাম ধর্মের প্রসারের গতি সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে; বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। বিশেষ করে সাব-সাহারা আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। হিন্দু ধর্ম বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অবস্থানে রয়েছে, যার অনুসারী সংখ্যা ১০৭ কোটির বেশি এবং এদের সিংহভাগই ভারতে বসবাস করেন। বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ কোটির কাছাকাছি থাকলেও চীন ও থাইল্যান্ডে এই সংখ্যা কিছুটা স্থিতিশীল বা নিম্নমুখী।
দেশভিত্তিক ধর্মীয় পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, ভারত বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় কিন্তু জটিল ধর্মীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও এটি বিশ্বের অন্যতম বড় মুসলিম জনসংখ্যার দেশ। যুক্তরাষ্ট্রে খ্রিস্টধর্ম প্রধান হলেও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতি অনুগত না থাকার প্রবণতা বাড়ছে, বর্তমানে দেশটির প্রায় ২১ শতাংশ মানুষ নিজেদের 'নাস্তিক' বা 'অজ্ঞেয়বাদী' হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। সৌদি আরবে কট্টরপন্থী অবস্থান থেকে সরে এসে সামাজিক সংস্কারের ফলে ধর্মীয় পরিবেশে কিছুটা শিথিলতা এলেও দেশটি এখনো সুন্নি ইসলামের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে তার মর্যাদা ধরে রেখেছে, যেখানে প্রায় ২৪ কোটি মুসলিমের বাস। বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য থাকলেও মাঝেমধ্যে উত্তজনা দেখা যায়, তবে জনসংখ্যার ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ এখানে ইসলামের অনুসারী। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়া এবং সোমালিয়ার মতো দেশগুলোতে ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম অভাব দেখা যাচ্ছে, যেখানে বিশ্বাস পালনের কারণে এখনো মানুষ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছে। ইউরোপের দেশগুলোতে বিশেষ করে ফ্রান্স ও জার্মানিতে অভিবাসনের প্রভাবে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে, যা দেশগুলোর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
