২০২৬ সালের শুরুতেই বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো তাদের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র তার নতুন বাণিজ্য নীতিতে আমদানির ওপর শুল্ক বাড়াতে শুরু করায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো এখন বিকল্প বাজারের সন্ধানে এশিয়ার দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে জার্মানি ও ফ্রান্সের গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা কৃষি পণ্য রপ্তানিতে লাতিন আমেরিকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন ও প্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় ধরনের ছাড় দিচ্ছে। রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় দেশটি এখন তুরস্ক এবং ইরানের মাধ্যমে তাদের বাণিজ্যিক লেনদেন সচল রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স সাপ্লাই চেইনে নিজেদের অপরিহার্য করে তুলছে, যার ফলে বড় বড় আমেরিকান কোম্পানিগুলো তাদের কারখানা চীন থেকে সরিয়ে এই দেশগুলোতে নিয়ে আসছে।
আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে নাইজেরিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে লেনদেন বাড়িয়েছে, যা পুরো মহাদেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি এনেছে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড তাদের খনিজ সম্পদ ও ডেইরি পণ্য রপ্তানিতে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি সম্পন্ন করেছে। বিশ্ব বাণিজ্যের এই নতুন মেরুকরণে জ্বালানি সংকট এবং ডিজিটাল কারেন্সির ব্যবহার লেনদেনের পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসছে। শিপিং খরচ বাড়ার কারণে পণ্য পরিবহনে আকাশপথের ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
