চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগে বড় ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে সরাসরি তদন্ত শুরু করেছে দুদকের একটি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট টিম। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রার্থী নির্বাচন এবং মোটা অঙ্কের লেনদেনের তথ্য সামনে আসার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে নিয়োগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং রেজাল্ট শিট সংগ্রহ করেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনেক যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে তুলনামূলক কম মেধার প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার প্রমাণ প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে সম্পন্ন হওয়া কয়েকটি বিতর্কিত নিয়োগ বোর্ডের কার্যবিবরণী খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে এবং আর্থিক অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে অন্তত ১০ জন শিক্ষককে চাকরিতে নেওয়া হয়েছে। দুদকের এই অভিযানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভেতর এক ধরণের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
দুদক কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন এবং তথ্য গোপন করার কোনো চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শুধু শিক্ষক নিয়োগ নয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগেও দুর্নীতির জাল কতদূর ছড়িয়েছে তা নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। তদন্ত শেষে যদি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সাবেক ও বর্তমান প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। ভুক্তভোগী ও বঞ্চিত প্রার্থীরা দুদকের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর দাবি তুলেছেন।
