২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থার মানচিত্রে বড় ধরনের রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফিনল্যান্ড এখনও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী শিক্ষা ব্যবস্থার দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে, যেখানে ১০০ শতাংশ সাক্ষরতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার মান বাড়াতে আজ ১৬ জানুয়ারি ঢাকায় 'ঢাকা ঘোষণা' গৃহীত হয়েছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মতো দেশগুলো আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন পথ তৈরি করছে। সিঙ্গাপুর তার কঠোর পাঠ্যক্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার কারণে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে, বিশেষ করে গণিত ও বিজ্ঞানে তাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্বসেরা পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র উচ্চশিক্ষার জন্য এখনো প্রধান গন্তব্য হলেও কানাডা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্টাডি পারমিট ১০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ায় সেখানে পড়তে যাওয়ার সুযোগ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে। জার্মানি তার বৃত্তিমূলক শিক্ষা বা ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের জন্য ইউরোপের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে, যেখানে পড়ার খরচ কম হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের ভিড় বাড়ছে। জাপানে শিক্ষার হার প্রায় শতভাগ এবং সেখানে নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে নতুন কারিকুলাম চালু করা হয়েছে যা অন্যান্য দেশের জন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া তার অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় শক্ত অবস্থান করে নিয়েছে, যদিও সেখানে বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষার্থীরা একাডেমিক চাপে বিশ্বে এগিয়ে থাকলেও দেশটির সরকার এখন শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিয়ে পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনছে। এদিকে সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে এখনো প্রায় ২৪ কোটি শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে, যা বৈশ্বিক শিক্ষার বৈষম্যকে প্রকট করে তুলছে। নরওয়ে ও ডেনমার্কে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্কুলগুলোতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উচ্চমানের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, যা সামাজিক সমতা নিশ্চিত করছে। ইতালিতে শিক্ষা প্রশাসনে দুর্নীতির কিছু অভিযোগ উঠলেও দেশটি ডিজিটাল লার্নিং পরিকাঠামোয় ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। ভিয়েতনাম ২০২৬ সালকে তাদের শিক্ষা খাতের 'বিপ্লবের বছর' হিসেবে ঘোষণা করেছে, যেখানে ইংরেজিকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে বাধ্যতামূলক করার কাজ শুরু হয়েছে। আয়ারল্যান্ডে উচ্চশিক্ষিত নাগরিকের হার প্রায় ৫২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ। পুরো বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে শিক্ষা ব্যবস্থায় কীভাবে নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।
