১১ দলীয় জোট থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক কৌশল ও আদর্শিক অবস্থানের কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত সমমনা দলগুলোর সাথে নির্বাচন ও পরবর্তী সংস্কার নিয়ে মতপার্থক্যের কারণেই এই বিচ্ছেদ। ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বলছেন, জোটে থেকে বড় কোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হচ্ছে না বলেই তারা এককভাবে চলার পরিকল্পনা করছেন।
সম্প্রতি দলটির অভ্যন্তরীণ বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সেখানে তৃণমূলের নেতারা অভিযোগ করেন, এই জোটে থাকার ফলে ইসলামী আন্দোলনের নিজস্ব জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তি ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি আন্দোলনের দাবি-দাওয়া আদায়ে জোটের অন্য শরিকদের মধ্যে যথেষ্ট তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। দলটি এখন এককভাবে শক্তি সঞ্চয় করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে চায়।
বিগত কয়েক মাস ধরে ১১ দলীয় ঐক্য বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও ভেতরে ভেতরে অস্থিরতা চলছিল। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের মতো বড় শক্তির সাথে ছোট দলগুলোর স্বার্থের সংঘাত প্রকাশ্য রূপ নেয়। এর আগে জোটগতভাবে বড় ধরনের কোনো আন্দোলন বা জনসভা সফল করতে না পারার দায়ও একে অপরের ওপর চাপাচ্ছিল। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার মাধ্যমে সেই টানাপোড়েনের অবসান ঘটলো। ইসলামী আন্দোলন জানিয়েছে, তারা আপাতত স্বতন্ত্র কর্মসূচি পালন করবে এবং জনমত গঠনে কাজ করবে। তবে ভবিষ্যতে অন্য কোনো বৃহত্তর মোর্চায় যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সংকেত দেয়নি দলটি।
