জানুয়ারি ১৬, ২০২৬—আজকের দিনে বিশ্ব রাজনীতি যেন আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে বড় শক্তিগুলোর ক্ষমতার লড়াই, অন্যদিকে নতুন নতুন যুদ্ধ আর অর্থনৈতিক চাপের মুখে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আজই এক কড়া বার্তায় বলেছেন, বিশ্ব পরিস্থিতি এখন সবচাইতে বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে, কারণ ন্যাটো রাশিয়ার সীমান্ত ঘেঁষে তাদের শক্তি বাড়াতে মরিয়া। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণ অনেকটাই বদলে গেছে। ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে একরোখা অবস্থান নেওয়ায় পুরো ইউরোপ এখন থরথর করে কাঁপছে। মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ দক্ষিণ চীন সাগর ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা দেওয়ায় বড় কোনো যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ প্রায় চতুর্থ বছরে পা দিয়ে রাশিয়ার সামরিক দুর্বলতা কিছুটা সামনে আনলেও পুতিন পিছু হটতে নারাজ। বিপরীতে চীন নিজেকে বিশ্বের নতুন নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণে তারা অনেক এগিয়ে গেছে। তবে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের দূরত্ব কমেনি। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের উত্তেজনার পারদ আকাশচুম্বী, সেখানে তেহরানের আকাশে যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে আসছে। সৌদি আরব তাদের আকাশসীমা যুদ্ধের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
ভারতের পরিস্থিতিও বেশ জটিল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনায় ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক চাপিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক এখন তলানিতে ঠেকেছে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর থেকে। বাংলাদেশের ভেতর এখন ২০২৬ সালের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব দল চাপ দিলেও আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে রাখা না রাখা নিয়ে চলছে চরম বিতর্ক। এশিয়াজুড়ে এই অস্থিরতার মধ্যেও বিশ্বব্যাংক আভাস দিচ্ছে যে, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়বে, যার মূল কারিগর হবে এশিয়ার দেশগুলো। তবে ব্রিটেন ও কাতার থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং জলবায়ু চুক্তির অনিশ্চয়তা পুরো ২০২৬ সালকে এক অস্থির সময়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
