ইরানের সম্ভাব্য ড্রোন ও মিসাইল হামলার ভয়ে বর্তমানে চরম আতঙ্কে রয়েছে ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্ব। যেকোনো সময় বড় ধরনের হামলা হতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের সকল ইউনিটের ছুটি বাতিল করে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী তেল আবিব এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, ইরান তাদের রেভল্যুশনারি গার্ডসকে চূড়ান্ত প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছে। এই খবরের পর থেকেই ইসরায়েলের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে সুপারমার্কেটগুলোতে খাবার ও জরুরি পণ্য কেনার হিড়িক পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সম্ভাব্য জিপিএস বিভ্রান্তি এড়াতে দেশটির অনেক এলাকায় মানচিত্র ও নেভিগেশন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেই প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা বাঙ্কারে জরুরি বৈঠক করছেন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ও ‘অ্যারো’ সিস্টেমকে সবসময় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তেল আবিবের মেয়র বাসিন্দাদের জন্য শহরের পাবলিক শেল্টার বা বোমা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মন্ত্রিসভার সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলেছেন এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর বাতিল করার পরামর্শ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ঘাঁটির নিরাপত্তা বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ ইরান মার্কিন স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই হামলা সরাসরি হলে মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।
