রাশিয়ার পর এবার পানামার পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড। সমুদ্রসীমায় নিয়ম লঙ্ঘন এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পরিবহনের অভিযোগে জাহাজটিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক জলসীমায় টহল দেওয়ার সময় সন্দেহভাজন এই বিশাল ট্যাংকারটিকে থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। রাশিয়ার ওপর জ্বালানি সংক্রান্ত যে কঠোর বিধিনিষেধ আছে, এই জাহাজটি তা ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছিল বলে দাবি করছে পেন্টাগন। জাহাজটিতে থাকা কয়েক লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল এবং এর ক্রু সদস্যদের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এর আগে রাশিয়ার মালিকানাধীন একাধিক জাহাজ জব্দ করার পর এবার পানামার পতাকাবাহী জাহাজের ওপর এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, অবৈধভাবে তেল পাচার করে বিশ্ববাজারে দামের ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিল এই জাহাজটি। পানামা সরকার এখনও তাদের পতাকাবাহী এই জাহাজ জব্দের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে জাহাজটি কোন বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং এর আসল গন্তব্য কোথায় ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান রাশিয়ার তেল রপ্তানির পথ আরও কঠিন করে তুলবে।
সমুদ্রপথে অবৈধ বাণিজ্য রুখতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নজরদারি আরও বাড়িয়েছে এবং মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতায় তল্লাশি চালাচ্ছে। এই ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। জব্দকৃত ট্যাংকারটিকে বর্তমানে একটি নিরাপদ মার্কিন বন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাহাজটিকে ছাড়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ। রাশিয়ার মিত্র দেশগুলোর নৌযানগুলো এখন থেকে বাড়তি নজরদারির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
