অভিবাসী অভিযানে নারীর মৃত্যু: যুক্তরাষ্ট্রে রণক্ষেত্র শহর, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ


যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের চালানো এক বড় অভিযানে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশটির একটি শহর এখন উত্তাল। অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে চালানো এই ঝটিকা অভিযানের সময় এক পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে ওই নারী প্রাণ হারান। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে এসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। এই মৃত্যু অভিবাসন বিরোধী কড়াকড়ি অভিযানের অমানবিক দিকটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করছেন, কোনো উসকানি ছাড়াই নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে শক্তি প্রয়োগ করেছে, যার বলি হতে হয়েছে ওই নিরীহ নারীকে।

শহরের প্রধান সড়কগুলো আন্দোলনকারীরা অবরোধ করে রেখেছেন, যার ফলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের দাবি তুলছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করেই ঘরবাড়িতে ঢুকে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শহরজুড়ে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অনেক জায়গায় কারফিউ জারির চিন্তা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশেই নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

এদিকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই অপরাধীদের ধরতে অভিযানে গিয়েছিল, তবে মৃত্যুর কারণ নিয়ে তারা তদন্ত শুরু করেছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে স্থানীয় প্রশাসন বিক্ষোভকারীদের সাথে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিলেও তাতে এখন পর্যন্ত কাজ হয়নি। সাধারণ মানুষের দাবি, যতক্ষণ পর্যন্ত না দোষী কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে। বিভিন্ন শহরের স্কুল-কলেজ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও এই বিক্ষোভের সমর্থনে বন্ধ রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকেও এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করা হচ্ছে, যা বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

Previous Post Next Post