ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র পুয়ের্তো রিকোতে বড় ধরনের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা, শক্তিশালী সাঁজোয়া যান এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, কৌশলগত কারণে এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে এই ভারী সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছানোর ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, লাতিন আমেরিকা ও সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতেই ওয়াশিংটন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বর্তমানে পুয়ের্তো রিকোর বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো নোঙর করে আছে। এর পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকাগুলোতে অত্যাধুনিক সাঁজোয়া যানের টহল লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গত কয়েক দশকের মধ্যে এত বড় পরিসরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি তারা আর দেখেননি। যদিও মার্কিন প্রশাসন একে কেবলই নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ এবং প্রতিরক্ষা মহড়া হিসেবে দাবি করছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মোতায়েনকে সাধারণ কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষ করে এই অঞ্চলে যেকোনো ধরণের অস্থিরতা মোকাবিলায় পুয়ের্তো রিকোকে প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। নতুন করে আসা সেনাদের থাকার জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প ও রসদ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাঁজোয়া যানগুলো মূলত স্থলপথের নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে। সামরিক সূত্রগুলো বলছে, এই অভিযান বা মোতায়েনের মেয়াদ কতদিন হতে পারে সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনো দেওয়া হয়নি। পুয়ের্তো রিকোর কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ ও আকাশপথের নজরদারি আরও বাড়াতে চায়।
