মানুষের রাজত্ব কি শেষ? এআই-এর দাপটে পৃথিবী পাল্টে যাওয়ার ভয়ানক পূর্বাভাস!


 মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে টেক্কা দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। ওপেনএআই এবং গুগল ডিপমাইন্ডের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা মনে করছেন, এআই যেভাবে নিজেকে উন্নত করছে তাতে এক সময় এটি নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে শুরু করবে। বর্তমানে আমরা চ্যাটজিপিটি বা ইমেজ জেনারেটরের মতো যেসব টুল দেখছি, সেগুলো এআই-এর ক্ষমতার সামান্য অংশ মাত্র। ভবিষ্যতে এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক ব্যবস্থা, যোগাযোগ মাধ্যম এমনকি সামরিক সিদ্ধান্তও নিতে সক্ষম হবে। যখন কোনো সফটওয়্যার নিজের কোড নিজে সংশোধন করতে শুরু করবে, তখন মানুষের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ সীমিত হয়ে আসবে।

ইতোমধ্যেই অনেক কর্মক্ষেত্রে এআই মানুষের বিকল্প হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে, যা বড় ধরনের বেকারত্ব তৈরির সংকেত দিচ্ছে। শুধু কায়িক শ্রম নয়, সৃজনশীল কাজ যেমন লেখালেখি বা গ্রাফিক ডিজাইনেও এআই তার আধিপত্য বিস্তার করছে। যদি কোনো কারণে এই প্রযুক্তির লক্ষ্য মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে চলে যায়, তবে তা মোকাবিলা করা কঠিন হবে। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, এআই-কে কোনো নির্দিষ্ট নৈতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে না রাখলে এটি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে। সুপার-ইন্টেলিজেন্স বা অতি-বুদ্ধিমান এআই তৈরি হলে সেটি পৃথিবীর সব তথ্য ও সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে। মানুষ কি সত্যিই এই প্রযুক্তির লাগাম টেনে ধরতে পারবে, নাকি শেষ পর্যন্ত রোবটের অধীনে থাকতে হবে—সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় বিতর্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Previous Post Next Post