গভীর সমুদ্রে রহস্য: নজরদারি ফাঁকি দিয়ে কোথায় হারালো ‘ক্যাপ্টেন নিকোলাস’?


 বঙ্গোপসাগরে নোঙর করা অবস্থায় হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে গেছে আলোচিত লাইটার জাহাজ ‘ক্যাপ্টেন নিকোলাস’। জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল, যা নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে নৌ-পরিবহন খাতে। শিপিং এজেন্ট ও বন্দর কর্তৃপক্ষ এই অন্তর্ধানকে ‘রহস্যজনক’ বলে অভিহিত করেছে। সাধারণত কোনো জাহাজ এলাকা ছাড়ার আগে বন্দরের অনুমতি নিতে হয়, কিন্তু এই ক্ষেত্রে কোনো নিয়মই মানা হয়নি।

জাহাজটি উধাও হওয়ার পরপরই কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে। নিখোঁজ এই জাহাজে ঠিক কতজন ক্রু ছিলেন এবং কী পরিমাণ পণ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। রাডার বা অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (AIS) বন্ধ করে জাহাজটি সরে পড়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ করা হচ্ছে। কোনো শক্তিশালী চক্রের যোগসাজশ ছাড়া এত বড় জাহাজ সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে পালানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্যাপ্টেন নিকোলাস জাহাজটি বেশ কিছুদিন ধরে আইনি জটিলতায় ছিল বলে জানা গেছে। মালিকানা নিয়ে বিরোধ নাকি বড় কোনো পাচারের উদ্দেশ্যে জাহাজটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় নাবিকদের মতে, গভীর সমুদ্রের দিকে যাত্রা করলে জাহাজটি খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়বে। বন্দরের নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে কীভাবে এটি বেরিয়ে গেল, তা নিয়ে দায়িত্বরতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেও জাহাজটির অবস্থান সংকেত পাওয়া যাচ্ছিল। হঠাৎ করে সংকেত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষ কোনো টেকনিশিয়ান এর ট্র্যাকিং সিস্টেম অকেজো করে দিয়েছে। সাগরে টহলরত জাহাজগুলোকে নিখোঁজ ভেসেলটির সন্ধানে তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে বাংলাদেশের জলসীমায় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন নৌ-বিশেষজ্ঞরা।

Previous Post Next Post